Search Jobs, Education Hub & Career Platform

ইন্টারভিউয়ের আগে কোম্পানি রিসার্চ কেন জরুরি এবং কীভাবে কোম্পানি সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন

কোনো কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে আমি শুধু নিজের সিভি বা জব রোল নিয়েই বসে থাকতাম না। আমি সব সময় চেষ্টা করতাম আগে কোম্পানিটাকে বুঝতে। কারণ আমি খুব তাড়াতাড়ি একটা বিষয় বুঝে গিয়েছিলাম—ইন্টারভিউতে শুধু নিজের সম্পর্কে ভালো বললেই হয় না, যে কোম্পানিতে যাচ্ছি সেই কোম্পানি সম্পর্কে জানাও খুব জরুরি।

আমি দেখেছি, যখন আমি কোম্পানি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে ইন্টারভিউতে গেছি, তখন আমার উত্তরগুলো অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়েছে। আর যখন না জেনে গেছি, তখন “আপনি আমাদের কোম্পানিতে কাজ করতে চান কেন?”—এই এক প্রশ্নেই আটকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।

তাই আমি এখন সব সময় মনে করি, ইন্টারভিউ প্রস্তুতির অর্ধেক হলো নিজের প্রস্তুতি, আর বাকি অর্ধেক হলো কোম্পানিকে বোঝা।

Table of Contents

আমি কেন ইন্টারভিউয়ের আগে কোম্পানি রিসার্চ করতাম

শুরুর দিকে আমি ভাবতাম, কোম্পানি রিসার্চ করা মানে শুধু “About Us” পেজ একটু দেখে নেওয়া। পরে বুঝলাম, বিষয়টা তার চেয়ে অনেক অনেক বড়। আমি যত বেশি রিসার্চ করেছি, তত বুঝেছি—এটা ইন্টারভিউ পারফরম্যান্সে সত্যিই বড় পার্থক্য তৈরি করে।

১. “আপনি আমাদের কোম্পানিতে কাজ করতে চান কেন?”—এর ভালো উত্তর দেওয়ার জন্য

এই প্রশ্নটা আমি প্রায় সব ইন্টারভিউতেই শুনেছি।
আর আমি বুঝেছি, এই প্রশ্নের উত্তর সাধারণভাবে দিলে ইমপ্রেস করা যায় না।

যেমন, যদি আমি বলি:

  • “আপনাদের কোম্পানি ভালো”
  • “আমি এখানে কাজ করতে আগ্রহী”
  • “এই চাকরিটা আমার দরকার”

তাহলে সেটা খুব শক্তিশালী উত্তর হয় না।

কিন্তু আমি যখন আগে থেকে জেনে যেতাম যে—

  • কোম্পানির কাজের ধরন কী
  • তারা কোন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে
  • সম্প্রতি তারা কী করছে
  • তাদের কাজের পরিবেশ কেমন

তখন আমি অনেক নির্দিষ্টভাবে বলতে পারতাম কেন আমি সেখানে কাজ করতে চাই।

২. নিজের অভিজ্ঞতাকে কোম্পানির চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে বলতে

আমি সব সময় দেখতাম, এক কোম্পানির জন্য যে উত্তর ভালো কাজ করে, আরেক কোম্পানির জন্য সেটা ততটা ভালো কাজ নাও করতে পারে।

ধরুন, আমি যদি এমন কোনো কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যাই যারা খুব দ্রুতগতির কাজ পছন্দ করে, তাহলে আমি আমার এমন অভিজ্ঞতার কথা বলতাম যেখানে আমি কম সময়ে কাজ শেষ করেছি।
আবার যদি কোম্পানিটি টিমওয়ার্ককে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে আমি এমন উদাহরণ দিতাম যেখানে টিমের সঙ্গে কাজ করেছি।

এই কাজটা করতে পারতাম শুধু তখনই, যখন আগে থেকে কোম্পানিকে একটু বুঝে যেতাম।

৩. স্মার্ট প্রশ্ন করার জন্য

আমি আগে একটা ভুল করতাম। ইন্টারভিউয়ের শেষে যখন বলা হতো,
“আপনার কি কোনো প্রশ্ন আছে?”
তখন আমি বলতাম, “না, আমার আর কোনো প্রশ্ন নেই।”

পরে বুঝলাম, এটা আসলে একটা মিস করা সুযোগ।

কোম্পানি সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানলে আমি এমন প্রশ্ন করতে পারতাম:

  • “আমি দেখেছি আপনারা সম্প্রতি নতুন একটি সার্ভিস চালু করেছেন, এই রোলে সেটার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ থাকবে কি?”
  • “এই টিমে প্রথম ৩ মাসে সফল হতে হলে কোন জিনিসটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?”
  • “আপনাদের কাজের কালচার সম্পর্কে জানতে চাই—এই টিমে সহযোগিতার ধরন কেমন?”

এই ধরনের প্রশ্ন ইন্টারভিউয়ারকে বুঝিয়ে দেয়, আমি সত্যিই আগ্রহ নিয়ে এসেছি।

৪. চাকরিটা আমার জন্য ঠিক কি না সেটা বুঝতে

আমি সব সময় মনে করতাম, ইন্টারভিউ শুধু কোম্পানির জন্য না—আমার জন্যও।
অর্থাৎ, শুধু কোম্পানি আমাকে নেবে কি না তা না, আমিও দেখব এই জায়গাটা আমার জন্য ঠিক কি না।

তাই আমি রিসার্চ করতাম এই কারণে:

  • এখানে শেখার সুযোগ আছে কি না
  • কাজের চাপ কেমন হতে পারে
  • কাজের ধরন আমার সঙ্গে মানাবে কি না
  • কোম্পানির মূল্যবোধ আমার চিন্তার সঙ্গে মেলে কি না

৫. নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য

যেদিন আমি কোম্পানি সম্পর্কে কিছু না জেনে ইন্টারভিউতে গেছি, সেদিন আমার ভয় বেশি কাজ করেছে।
আর যেদিন আমি আগে থেকে পড়ে গেছি, নোট করে গেছি, সেদিন ইন্টারভিউ রুমে ঢুকেই মনে হয়েছে—হ্যাঁ, আমি প্রস্তুত।

ইন্টারভিউয়ের আগে আমি কী কী জানার চেষ্টা করতাম

আমি কোম্পানি রিসার্চ করার সময় এলোমেলোভাবে খুঁজতাম না। আমি কয়েকটা নির্দিষ্ট বিষয় মাথায় রেখে তথ্য জোগাড় করতাম।

১. কোম্পানিটি আসলে কী করে

সবার আগে আমি বুঝতে চাইতাম:

  • কোম্পানিটি কোন সেক্টরে কাজ করে
  • তারা কী পণ্য বা সেবা দেয়
  • তাদের প্রধান গ্রাহক কারা
  • তারা কোন সমস্যার সমাধান করে

কারণ আমি মনে করতাম, যে কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি, তারা আসলে কী করে সেটাই যদি ঠিকমতো না জানি, তাহলে সেটা খুব খারাপ দেখাবে।

২. কোম্পানির প্রধান পণ্য বা সেবা

আমি শুধু নাম জেনে থেমে যেতাম না। আমি দেখতাম:

  • তাদের মূল সার্ভিস কী
  • একাধিক সার্ভিস থাকলে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ
  • তারা B2B নাকি B2C
  • তাদের কাস্টমার কোন ধরনের মানুষ বা প্রতিষ্ঠান

এতে করে আমি আমার উত্তরগুলো আরও ঠিকভাবে সাজাতে পারতাম।

৩. কোম্পানির মিশন, ভিশন ও ভ্যালু

সব সময় না হলেও, আমি চেষ্টা করতাম এগুলো দেখে নিতে। বিশেষ করে যদি কোম্পানিটি কর্পোরেট, টেক, স্টার্টআপ বা উন্নয়ন খাতের হয়।

আমি খুঁজতাম:

  • তারা নিজেদের কী উদ্দেশ্যে কাজ করে বলে
  • কোন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়
  • customer service, innovation, teamwork, integrity—এর মধ্যে কোন শব্দ বেশি আসে

৪. সাম্প্রতিক খবর বা আপডেট

এটা আমি খুব কাজে লাগতে দেখেছি।
আমি যদি জানতাম কোম্পানিটি সম্প্রতি—

  • নতুন ব্রাঞ্চ খুলেছে
  • নতুন প্রোডাক্ট চালু করেছে
  • কোনো পুরস্কার পেয়েছে
  • নতুন পার্টনারশিপ করেছে
  • কোনো বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে

তাহলে সেটা ইন্টারভিউতে উল্লেখ করতে পারতাম। এতে আমার প্রস্তুতি খুব ভালো বোঝাত।

৫. কোম্পানির কাজের পরিবেশ

আমি সব সময় জানতে চাইতাম, ভেতরের পরিবেশ কেমন হতে পারে।
যদিও বাইরে থেকে শতভাগ বোঝা যায় না, তবুও কিছু ধারণা পাওয়া যায়।

আমি দেখতাম:

  • কাজের গতি কেমন
  • টিম ছোট না বড়
  • শেখার সুযোগ আছে কি না
  • কর্মীরা কী ধরনের পোস্ট শেয়ার করছে
  • কোম্পানির ভাষা কেমন—বন্ধুত্বপূর্ণ, কর্পোরেট, নাকি খুব ফাস্ট-পেসড

৬. আমি যে পজিশনে আবেদন করেছি, সেটা আসলে কী চায়

অনেক সময় শুধু জব টাইটেল দেখে বোঝা যায় না কাজটা আসলে কী।

তাই আমি চেষ্টা করতাম বুঝতে:

  • এই রোলে দৈনিক কী কাজ করতে হবে
  • কার সঙ্গে কাজ করতে হতে পারে
  • কোন স্কিলটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
  • কোম্পানি আসলে এই পজিশনে কী ধরনের মানুষ খুঁজছে

আমি কীভাবে ধাপে ধাপে কোম্পানি রিসার্চ করতাম

এখন আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে—আমি বাস্তবে কীভাবে রিসার্চ করতাম।

১. আমি প্রথমে জব ডিসক্রিপশন খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তাম

আমার রিসার্চ সব সময় জব পোস্ট থেকেই শুরু হতো।
কারণ আমি জানতাম, কোম্পানি তারা কী চায় সেটা সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে জব ডিসক্রিপশনেই লিখে দেয়।

আমি এই জায়গাগুলোতে বিশেষভাবে খেয়াল করতাম:

  • মূল দায়িত্ব
  • প্রয়োজনীয় স্কিল
  • অভিজ্ঞতার ধরন
  • কোন সফটওয়্যার বা টুল জানা দরকার
  • কোন কী-ওয়ার্ড বারবার এসেছে

আমি কীভাবে নোট করতাম

আমি আলাদা করে লিখে রাখতাম:

  • এই রোলে কোম্পানি কোন ৩টি জিনিস সবচেয়ে বেশি চাইছে
  • আমার কোন ৩টি অভিজ্ঞতা তার সঙ্গে মেলে
  • ইন্টারভিউতে কোন উদাহরণগুলো বলব

এতে আমার রিসার্চ আর উত্তর—দুইটাই একই লাইনে থাকত।

২. তারপর আমি কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতাম

এটা ছিল আমার সবচেয়ে ভরসার জায়গা।
কারণ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই কোম্পানির আসল পরিচয় সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।

আমি সাধারণত যে পেজগুলো দেখতাম

  • Home
  • About Us
  • Products / Services
  • Careers
  • Blog / News
  • Leadership / Team
  • Contact / Locations

আমি কী কী বের করার চেষ্টা করতাম

  • কোম্পানির মূল কাজ কী
  • তারা নিজেদের কীভাবে উপস্থাপন করছে
  • তাদের ভাষা কেমন
  • তারা কাস্টমারদের জন্য কী ভ্যালু দিচ্ছে
  • তাদের কাজের দিক কোন দিকে বেশি

আমি বিশেষ করে “About Us” পেজ দেখে শুধু ইতিহাস জানতাম না, বরং বোঝার চেষ্টা করতাম—কোম্পানিটি নিজেকে কীভাবে দেখে।

৩. আমি Careers পেজ আলাদা করে দেখতাম

এই অংশটা আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করতাম।
কারণ Careers পেজে অনেক সময় কোম্পানির কালচার সম্পর্কে এমন তথ্য থাকে, যা অন্য কোথাও পরিষ্কারভাবে লেখা থাকে না।

আমি যে বিষয়গুলো খুঁজতাম

  • কাজের পরিবেশ কেমন
  • ট্রেনিং বা শেখার সুযোগ আছে কি না
  • টিমওয়ার্ককে কতটা গুরুত্ব দেয়
  • remote, hybrid নাকি office-based
  • তারা কী ধরনের মানসিকতার মানুষ খুঁজছে

যদি কোনো শব্দ বারবার আসত, যেমন:

  • ownership
  • collaboration
  • learning mindset
  • fast-paced environment
  • innovation

তাহলে আমি বুঝতাম, এগুলো তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৪. আমি LinkedIn-এ কোম্পানির প্রোফাইল দেখতাম

যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে ইন্টারভিউর আগে কোন একটা প্ল্যাটফর্ম অবশ্যই দেখা উচিত, আমি বলব—LinkedIn

কারণ এখানে আমি একসঙ্গে অনেক দরকারি তথ্য পেতাম।

আমি LinkedIn-এ কী দেখতাম

  • কোম্পানির পেজে কী ধরনের পোস্ট দেয়
  • তাদের কর্মী সংখ্যা আনুমানিক কত
  • নতুন নিয়োগ হচ্ছে কি না
  • তারা কোন অর্জনগুলো শেয়ার করছে
  • কোম্পানির কর্মীরা কী নিয়ে কথা বলছে

আমি কর্মীদের প্রোফাইলও দেখতাম

বিশেষ করে যদি আমি যে পজিশনে আবেদন করেছি, সেই ধরনের পজিশনে কারা কাজ করছেন সেটা দেখতে পারতাম, তাহলে আমার জন্য খুব উপকারী হতো।

আমি দেখতাম:

  • তারা কী স্কিল ব্যবহার করছেন
  • তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কী
  • ওই টিমে কাজের ধরন কেমন হতে পারে

এতে জব রোলের বাস্তব ছবি কিছুটা বুঝতে পারতাম।

৫. আমি Facebook, YouTube বা অন্য সোশ্যাল মিডিয়াও দেখতাম

বিশেষ করে অনেক স্থানীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে আমি দেখেছি, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খুব আপডেটেড না হলেও Facebook পেজে ভালো তথ্য পাওয়া যায়।

আমি কী কী দেখতাম

  • তারা কী ধরনের কনটেন্ট পোস্ট করে
  • তাদের ব্র্যান্ড টোন কেমন
  • কোনো ইভেন্ট বা অফিস অ্যাক্টিভিটি আছে কি না
  • কাস্টমাররা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে
  • টিম কালচার বোঝা যায় কি না

YouTube থাকলে আমি দেখতাম:

  • কোম্পানির পরিচিতিমূলক ভিডিও
  • ফাউন্ডারের সাক্ষাৎকার
  • অফিস ট্যুর
  • পণ্যের ডেমো
  • ইভেন্ট হাইলাইটস

এগুলো খুব কাজে দিত, কারণ আমি কোম্পানিটাকে একটু “ফিল” করতে পারতাম।

৬. আমি Google-এ সাম্প্রতিক খবর খুঁজে দেখতাম

আমি সব সময় চেষ্টা করতাম, ইন্টারভিউর আগে অন্তত গত ৬ মাস বা ১ বছরের মধ্যে কোম্পানিটি কী করেছে সেটা জানতে।

আমি যেভাবে সার্চ করতাম

  • কোম্পানির নাম + news
  • কোম্পানির নাম + expansion
  • কোম্পানির নাম + product launch
  • কোম্পানির নাম + press release
  • কোম্পানির নাম + award

আমি কী খুঁজতাম

  • নতুন পণ্য বা সেবা
  • বিনিয়োগ বা ফান্ডিং
  • নতুন ব্রাঞ্চ বা মার্কেট
  • পার্টনারশিপ
  • কোনো বড় পরিবর্তন
  • মিডিয়াতে কীভাবে কোম্পানির কথা বলা হচ্ছে

যদি এসব তথ্য পেতাম, আমি ইন্টারভিউতে সেটা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতাম।

৭. আমি কর্মীদের রিভিউ পড়তাম, তবে সাবধানে

অনলাইনে Glassdoor, Indeed বা অন্য রিভিউ প্ল্যাটফর্মে কিছু তথ্য পাওয়া গেলে আমি সেটা দেখতাম।
কিন্তু আমি কখনোই এক-দুটি রিভিউ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতাম না।

আমি কীভাবে রিভিউ ব্যবহার করতাম

  • একই ধরনের মন্তব্য বারবার এসেছে কি না দেখতাম
  • ভালো ও খারাপ—দুই দিকই পড়তাম
  • কোনো প্যাটার্ন আছে কি না বোঝার চেষ্টা করতাম
  • তথ্যকে “ইঙ্গিত” হিসেবে নিতাম, “চূড়ান্ত সত্য” হিসেবে না

রিভিউ থেকে আমি কী বুঝতে চাইতাম

  • কাজের চাপ কেমন
  • ম্যানেজমেন্ট কেমন হতে পারে
  • শেখার সুযোগ আছে কি না
  • টিমওয়ার্কের অবস্থা
  • মানুষ কেন সেখানে থাকতে চায় বা ছাড়ে

৮. পরিচিত কেউ থাকলে আমি কথা বলতাম

যদি আমার পরিচিত কেউ ওই কোম্পানিতে কাজ করত বা আগে কাজ করে থাকত, তাহলে আমি ভদ্রভাবে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করতাম।

আমি সাধারণত যেসব প্রশ্ন করতাম

  • কাজের পরিবেশ কেমন?
  • টিম কেমন?
  • এই রোলে কোন স্কিলটা সবচেয়ে বেশি লাগে?
  • ইন্টারভিউতে কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে?
  • এখানে শেখার সুযোগ কেমন?

আমি সব সময় খেয়াল রাখতাম, যেন খুব ব্যক্তিগত বা গোপন কিছু না জিজ্ঞেস করি।

রিসার্চ করার পর আমি কীভাবে নোট বানাতাম

আমি শুধু পড়ে রেখে দিতাম না। কারণ আমি জানতাম, ইন্টারভিউর আগে সব কিছু মনে রাখা কঠিন।

তাই আমি একটা ছোট one-page note বানাতাম।

আমার নোটে সাধারণত যা থাকত

  • কোম্পানির নাম
  • কোম্পানি কী করে
  • প্রধান পণ্য/সেবা
  • টার্গেট কাস্টমার
  • সাম্প্রতিক ২-৩টি খবর
  • কোম্পানির ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
  • এই রোলে আমার কোন স্কিলগুলো কাজে লাগবে
  • “কেন এই কোম্পানিতে কাজ করতে চাই” এর উত্তর
  • ইন্টারভিউ শেষে করার জন্য ৩টি প্রশ্ন

এই ছোট নোটটা আমার জন্য দারুণ কাজ করত।

ইন্টারভিউতে আমি এই রিসার্চ কীভাবে ব্যবহার করতাম

রিসার্চ করা এক জিনিস, আর সেটা ইন্টারভিউতে কাজে লাগানো আরেক জিনিস।
আমি চেষ্টা করতাম, যেন আমার রিসার্চটা উত্তরগুলোর ভেতর স্বাভাবিকভাবে আসে।

১. “আপনি আমাদের কোম্পানিতে কাজ করতে চান কেন?” প্রশ্নে

এখানে আমি সাধারণ উত্তর দিতাম না।
আমি কোম্পানির নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ধরে বলতাম।

উদাহরণ হিসেবে আমি এভাবে বলতাম

“আমি দেখেছি, আপনারা সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করার দিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমার আগের কাজেও কাস্টমার ফিডব্যাক নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। তাই আমি মনে করি, এই রোলে আমি ভালোভাবে অবদান রাখতে পারব।”

এভাবে বললে উত্তরটা অনেক বাস্তব শোনাত।

২. নিজের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে

যদি আমি আগে থেকে বুঝে যেতাম কোম্পানি data-driven, তাহলে আমি ডেটা ব্যবহার করার উদাহরণ বেশি বলতাম।
যদি বুঝতাম কোম্পানি client-facing, তাহলে communication-এর উদাহরণ বেশি দিতাম।

৩. স্মার্ট প্রশ্ন করতে

ইন্টারভিউ শেষে আমি চেষ্টা করতাম অন্তত ২-৩টি ভালো প্রশ্ন করতে।

যেমন:

  • “আমি দেখেছি আপনাদের টিম নতুন একটি সার্ভিস নিয়ে কাজ করছে। এই রোল কি সেটার সঙ্গে যুক্ত?”
  • “এই পজিশনে প্রথম ৩ মাসে আপনারা কী ধরনের ফলাফল আশা করেন?”
  • “এই টিমে কাজ করা একজন সফল ব্যক্তির মধ্যে কোন গুণগুলো বেশি দেখা যায়?”

ইন্টারভিউয়ের আগে আমার ৩০ মিনিটের দ্রুত কোম্পানি রিসার্চ প্ল্যান

সব সময় অনেক সময় পাওয়া যায় না।
তাই সময় কম থাকলে আমি এই ছোট প্ল্যানটা ফলো করতাম।

প্রথম ৫ মিনিট: জব ডিসক্রিপশন

  • মূল দায়িত্ব
  • দরকারি স্কিল
  • কীওয়ার্ড

পরের ১০ মিনিট: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

  • About Us
  • Products/Services
  • Careers
  • News

পরের ৫ মিনিট: LinkedIn / Facebook

  • সাম্প্রতিক পোস্ট
  • টিম সম্পর্কে ধারণা
  • ব্র্যান্ড টোন

পরের ৫ মিনিট: Google News

  • নতুন আপডেট
  • পুরস্কার
  • এক্সপ্যানশন
  • পণ্য বা সেবা লঞ্চ

শেষ ৫ মিনিট: নিজের নোট

  • কেন আমি এই কোম্পানিতে আগ্রহী
  • আমার কোন স্কিল মিলছে
  • ২-৩টি প্রশ্ন

এই ৩০ মিনিটের প্রস্তুতিও আমাকে অনেকবার ভালোভাবে সাহায্য করেছে।

কোম্পানি রিসার্চ করতে গিয়ে আমি যেসব ভুল এড়িয়ে চলতাম

রিসার্চ করতে গিয়েও ভুল করা যায়। আমি ধীরে ধীরে কিছু বিষয় শিখেছিলাম।

১. শুধু ইতিহাস মুখস্থ করতাম না

কোম্পানি কবে শুরু হয়েছে, কে প্রতিষ্ঠাতা—এসব জানতাম।
কিন্তু আমি বুঝতাম, এগুলো যথেষ্ট না।
আমি বেশি গুরুত্ব দিতাম কোম্পানির বর্তমান কাজ বুঝতে।

২. পুরোনো তথ্যের ওপর ভরসা করতাম না

অনেক পুরোনো ব্লগ বা পোস্ট দেখে সিদ্ধান্ত নিতাম না।
আমি চেষ্টা করতাম সাম্প্রতিক তথ্য ব্যবহার করতে।

৩. না বুঝে প্রশংসা করতাম না

আমি শুধু বলতাম না, “আপনাদের কোম্পানি খুব ভালো।”
আমি বলার চেষ্টা করতাম, কোন দিকটা আমার ভালো লেগেছে এবং কেন।

৪. রিভিউ দেখে নেতিবাচক হয়ে যেতাম না

অনলাইনে খারাপ মন্তব্য দেখলেই ভয় পেতাম না।
বরং চেষ্টা করতাম, সামগ্রিক চিত্রটা বুঝতে।

৫. প্রশ্ন না করে ইন্টারভিউ শেষ করতাম না

আমি বুঝে গিয়েছিলাম, ভালো প্রশ্নও ইন্টারভিউরই অংশ।
তাই কিছু না কিছু প্রশ্ন নিয়ে যেতাম।

ইন্টারভিউয়ের আগে আমার ব্যক্তিগত কোম্পানি রিসার্চ চেকলিস্ট

ইন্টারভিউর আগে আমি নিজের মতো করে এই চেকলিস্ট মিলিয়ে নিতাম:

  •  কোম্পানি কী করে, আমি পরিষ্কারভাবে জানি
  •  তাদের প্রধান পণ্য বা সেবা সম্পর্কে ধারণা আছে
  •  কোম্পানির গ্রাহক কারা, সেটা জানি
  •  সাম্প্রতিক ২-৩টি আপডেট জানি
  •  কাজের পরিবেশ সম্পর্কে মৌলিক ধারণা আছে
  •  আমি যে রোলে আবেদন করেছি, তার মূল দায়িত্ব বুঝেছি
  •  আমার কোন স্কিলগুলো এই কাজের সঙ্গে মেলে, সেটা ঠিক করেছি
  •  “কেন এই কোম্পানিতে কাজ করতে চাই” এর উত্তর প্রস্তুত
  •  ইন্টারভিউ শেষে করার জন্য ২-৩টি প্রশ্ন তৈরি আছে
  •  ছোট নোট তৈরি করা হয়েছে

আমি যখনই কোনো কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যেতাম, তখন একটা বিষয় সব সময় মনে রাখতাম—শুধু নিজের যোগ্যতা জানলেই হবে না, যে জায়গায় কাজ করতে চাই সেই জায়গাটাকেও জানতে হবে।

কোম্পানি রিসার্চ আমাকে শুধু ভালো উত্তর দিতে সাহায্য করেনি, বরং আমাকে বুঝতেও সাহায্য করেছে—এই চাকরিটা আসলে আমার জন্য ঠিক কি না। আমি যত বেশি কোম্পানি সম্পর্কে জেনে ইন্টারভিউতে গেছি, তত বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে পেরেছি।

সত্যি কথা বলতে, অনেক সময় খুব বড় প্রস্তুতি লাগে না।
শুধু সঠিক জায়গা থেকে সঠিক তথ্য নিয়ে গেলে ইন্টারভিউতে আপনি অনেকটাই এগিয়ে থাকতে পারেন।

তাই আমি যদি কাউকে একটাই পরামর্শ দিই, সেটা হবে—
ইন্টারভিউর আগে নিজের সিভি যেমন পড়বেন, তেমনি কোম্পানিটাকেও পড়বেন।

jobaid.net এডিটোরিয়াল টিম

Job Aid একটি নির্ভরযোগ্য ক্যারিয়ার ও শিক্ষা বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। আমরা সরকারি গেজেট/ওয়েবসাইট/জাতীয় পত্রিকা ও অফিশিয়াল সোর্স থেকে শিক্ষা তথ্য, ক্যারিয়ার এবং নিয়োগ সংক্রান্ত নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য—সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আপনার ক্যারিয়ার আলোকিত করা।

Related Posts

মিটিং, সেমিনার বা ভিডিওতে জড়তা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলার স্কিল ডেভেলপমেন্ট করার কৌশল

কীভাবে সফলভাবে এক পেশা থেকে অন্য পেশায় বা নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে শিফট করবেন?

পড়াশোনা শেষে নিজের প্যাশন ও স্কিল অনুযায়ী সঠিক পেশা কীভাবে বেছে নেবেন?